যখন আমরা জিনিসকে যেমন আছে তেমনই দেখি
আমরা যখন কোনো কিছুর মুখোমুখি হই, তখন প্রথমে তা যেমন আছে তেমন দেখার বদলে সাথে সাথে একটা রায় জুড়ে দিই। যদি মনে হয় সুন্দর, তবে তা পেতে চাই; যদি পছন্দ না হয়, তবে তা সরিয়ে দিতে চাই। সেই রায়ের কেন্দ্রে সাধারণত থাকে 'আমি'। যে জিনিস আমার উপকারে আসবে, আমাকে তৃপ্ত করবে, আমার ইচ্ছার সাথে মিলবে—এমন প্রয়োজনের মন সেই বিষয়টিকে আঁকড়ে ধরে।
একটি ফুল সুন্দর মনে হওয়া নিজে কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু যে মুহূর্তে 'আমাকে এটা পেতেই হবে' এই চিন্তা তার পিছু নেয়, তখন মন সেই বিষয়ের দিকে এগোতে শুরু করে। চাওয়া ও বিতৃষ্ণা, তুলনা ও ভেদবুদ্ধি একের পর এক আসতে থাকে, আর সেই গতি নতুন উদ্বেগ ও আসক্তি তৈরি করে।
সাধনা মানে জগৎ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া বা কিছু না করা নয়। এটা হলো নিজের চারপাশে জুড়ে দেওয়া ভেদবুদ্ধিকে কিছুক্ষণের জন্য নামিয়ে রেখে, আমাদের সামনে যা আছে তা যেমন আছে তেমনই দেখা। যখন আমরা ফুলকে ফুল হিসেবে, বাতাসকে বাতাস হিসেবে, আর নিজের মনকে কেবল উদয় হওয়া মন হিসেবে লক্ষ করি, তখন আমরা তার ওপর অপ্রয়োজনীয় গল্প জোড়া বন্ধ করি।
জিনিসকে যেমন আছে তেমন দেখা মানে অনুভূতিহীন হয়ে যাওয়া নয়। বরং এটা আমাদের আরও স্পষ্টভাবে দেখতে ও আরও সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। কারো কষ্ট দেখলেও, নিজের অনুভূতিকে আগে না রেখে সত্যিকারের প্রয়োজনীয় সাহায্যটা কী তা আমরা দেখতে পারি। আমরা যখন 'আমিই ঠিক' এই চিন্তায় আটকে থাকি না, তখন অপরের কথাও একটু বেশি পূর্ণভাবে শুনতে পারি।
মন যখন তাড়াহুড়ো করে জিনিসকে পছন্দ-অপছন্দে ভাগ করে, তখন প্রথমে দেখুন সেই মন কোথা থেকে শুরু হয়। শান্তভাবে লক্ষ করুন 'আমাকে এটা পেতেই হবে' বা 'এটা আমার ইচ্ছামতোই হতে হবে' এমন চিন্তা সেখানে আছে কি না। একমুহূর্তের সচেতনতা আসক্তিকে সাথে সাথে দূর করে না, কিন্তু সেই আসক্তির টানে পড়ে নতুন দুঃখ তৈরি করা থেকে আমাদের থামাতে পারে।
আমরা যখনই কিছু দেখি, পছন্দ ও অপছন্দ, চাওয়া ও সরিয়ে দেওয়া সাথে সাথে চলে আসে। সেই মনের কেন্দ্রে থাকে 'আমি'। একটু থামুন এবং বিষয় ও নিজের মনকে ঠিক যেমন আছে তেমনই দেখুন। আমরা যত কম ভেদবুদ্ধি যোগ করি, আসক্তি তত কমে আসে, আর প্রয়োজনের সময় তত সঠিকভাবে কাজ করতে পারি।