আজকের বাণী

আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়

2026 . 08 . 20

মানুষ প্রায়ই বলে, 'এটাই তো আমার স্বভাব,' অথবা 'এই বয়সে মানুষ কি আর বদলাতে পারে?' এটা সত্য যে দীর্ঘদিনের প্রবণতা ও অভ্যাস সহজে বদলায় না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এখন উদ্ভূত প্রতিটি আবেগকে এক অনিবার্য ভাগ্য বলে মেনে নিতে হবে।

আবেগ আমার সম্পূর্ণ পরিচয় নয়। এটি এখন মনে দেখা দেওয়া একটি ঘটনামাত্র। ক্রোধ, আঘাত, ভয় এবং ঘৃণা জেগে উঠতে পারে। যেমন আবহাওয়া বদলায়, তেমনি মনের অবস্থাও বদলায়; পরিস্থিতি একত্র হলে আবেগ দেখা দেয়, আর পরিস্থিতি পাল্টালে তা প্রশমিত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেগকে অস্বীকার করা বা তা চেপে রাখা নয়। আবার আবেগ যা বলতে প্ররোচিত করে, তা তৎক্ষণাৎ বলে ফেলাও নয়। সচেতনতা হলো, এই আবেগ যে জেগে উঠেছে তা যেমন আছে তেমনভাবে স্বীকার করা এবং তা পর্যবেক্ষণ করা।

কিন্তু যদি আমরা তৎক্ষণাৎ আবেগকেই নিজের সত্তা বলে বিশ্বাস করি, তবে তা আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। যখন আমরা ভাবি, 'আমিই ক্রোধ,' তখন ক্রোধের কথাকেই নিজের বলার কথা বলে ভুল করা সহজ হয়ে যায়। কিন্তু যখন আমরা দেখি, 'এই মুহূর্তে আমার মনে ক্রোধ জেগে উঠছে,' তখন আবেগ ও কাজের মধ্যে একটি ছোট্ট ফাঁক তৈরি হয়। সেই ফাঁক থেকেই অনুশীলন শুরু হয়।

রাগ অনুভব করা মানেই তা প্রকাশ করতে হবে, এমন নয়। আমরা প্রথমে লক্ষ করতে পারি যে ক্রোধ জেগে উঠেছে, এবং কিছুক্ষণ তা পর্যবেক্ষণ করতে পারি। আবেগের শক্তি তখনও থেকে গেলেও, সেই শক্তিকে কথায় ও কাজে ঢেলে দেব কি না, তা বেছে নেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়।

বৌদ্ধ ধর্মে সচেতনতা মানে আবেগের প্রতি নির্লিপ্ত, শীতল পর্যবেক্ষণ নয়। এটি হলো প্রজ্ঞার সাহায্যে দেখা—দুঃখ কোথায় সৃষ্টি হয়েছে, এবং সেই শক্তিকে করুণার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া, যাতে তা নিজের বা অন্যের ক্ষতি না করে। অনুশীলন হলো আবেগে ভেসে না গিয়ে প্রজ্ঞার সঙ্গে পরবর্তী কথা ও কাজ বেছে নেওয়া।

আবেগ মেঘের মতো। যেমন আকাশে মেঘ জমে আবার মিলিয়ে যায়, তেমনি পরিস্থিতি অনুযায়ী আবেগও জেগে ওঠে ও মিলিয়ে যায়। মেঘলা আকাশ পুরোপুরি মেঘই হয়ে যায় না। তেমনি মনে ক্রোধ জেগে উঠলেই আমি নিজে ক্রোধ হয়ে যাই না।

আবেগকে যদি আঁকড়ে ধরি, তা আসক্তিতে পরিণত হয়; আর তাকে যেমন আছে তেমনি অনুসরণ করলে তা সহজেই কর্মে পরিণত হয়। কিন্তু তাকে চিনে নিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে, সেই একই আবেগ অনুশীলনের উপকরণ হয়ে ওঠে। সচেতনতা কিছুটা দেরিতে এলেও ক্ষতি নেই। যদি ইতিমধ্যে কথা বলে ফেলা হয়ে থাকে, তবে তা নিয়ে চিন্তা করুন এবং পরের বার একটু আগেভাগে লক্ষ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

ব্যক্তিত্ব বহন করে দীর্ঘ অভ্যাসের ছাপ, আর আবেগ হলো মুহূর্তের একটি চলন। এই মুহূর্তের চলনগুলো বারবার লক্ষ করলে আমাদের প্রতিক্রিয়ার অভ্যাস বদলে যায়। সেই অভ্যাস বদলালে, ব্যক্তিত্ব, সম্পর্ক এবং জীবনের গতিপথও ধীরে ধীরে বদলাতে পারে।

সুতরাং অনুশীলন মানে এই নয় যে, কোনো আবেগই অনুভব না করা এমন মানুষ হয়ে ওঠা। বরং তা হলো এমন একজন মানুষ হয়ে ওঠা, যিনি জানেন কখন আবেগ জেগে ওঠে, তার দ্বারা ভেসে যান না, এবং করুণা ও প্রজ্ঞা দিয়ে পরবর্তী কাজ বেছে নিতে পারেন। এটি আবেগ মুছে ফেলা নয়, বরং তার নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠা।

আবেগ মুছে ফেলার চেষ্টা করবেন না; সচেতনতার মাধ্যমে আবেগ ও কাজের মধ্যে একধাপ ফাঁকা জায়গা তৈরি করুন।

আবেগ আমার সম্পূর্ণ পরিচয় নয়, বরং এই মুহূর্তে মনে জেগে ওঠা একটি ঘটনামাত্র। 'আমিই ক্রোধ' নয়, 'আমার মনে ক্রোধ জেগে উঠছে' — এভাবে দেখলে আবেগ ও কাজের মধ্যে একটি ছোট্ট ফাঁক তৈরি হয়। সেই ফাঁক থেকে করুণা ও প্রজ্ঞা দিয়ে পরবর্তী কাজ বেছে নেওয়াই অনুশীলন।

অনুবাদ জানাও
আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়
আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় কার্টুন
আবেগ মনে জেগে ওঠা একটি ঘটনা।
যত তাড়াহুড়ো করে ঘাঁটাই, মনের আগুন তত বাড়ে।
'আমিই ক্রোধ' না বলে দেখুন 'ক্রোধ জেগেছে'।
সচেতনতা আবেগ ও কাজের মধ্যে ফাঁক তৈরি করে।
আবেগকে করুণা ও প্রজ্ঞার দিকে ফেরানোই অনুশীলন।