বিচারমূলক চিন্তাকে বিশ্রাম দিন, মনকে লক্ষ করুন
কষ্টদায়ক ঘটনার মুখোমুখি হলে আপনি তা ঠেলে সরিয়ে দিতে চান। আনন্দদায়ক ঘটনার মুখোমুখি হলে তা অনেকক্ষণ ধরে রাখতে চান। আজকের শিক্ষা আপনাকে সেই মুহূর্তে জেগে ওঠা বিচারমূলক চিন্তাকে লক্ষ করতে আহ্বান জানায়। বাইরের ঘটনাকে দ্রুত ভালো বা মন্দ বলে রায় দিয়ে দেওয়া মন কীভাবে দুশ্চিন্তা বাড়ায়, তা ফিরে দেখুন।
বিজ্ঞান-মন (সিক্সিম, 識心) যখন শান্ত হয় এবং একটিও চিন্তা জাগে না, সেই অবস্থাকেই বলা হয় সম্যক বোধি, অনুত্তর সম্যক সম্বোধি। এখানে যে অ-মনের কথা বলা হয়েছে, তা কিছুই অনুভব না করার অবস্থা নয়, বা অন্যের ব্যথা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার মনোভাবও নয়। এটি এমন এক মনকে বোঝায়, যা কোনো বিষয়ের মুখোমুখি হয়ে ঠিক-ভুলের ধারণা তুলে তাকে আঁকড়ে ধরে না।
কষ্টের মুখোমুখি হলে 'কেন শুধু আমার সঙ্গেই এমন হয়?' ভাবা সহজ। আনন্দের মুখোমুখি হলে 'এভাবেই চলতে থাকা উচিত' ভাবাও সহজ। অথচ ঘটনাপ্রবাহের কোনো স্থির সত্তা নেই, আর তার মধ্যে আঁকড়ে ধরা 'আমি'ও আলাদাভাবে স্থির নয়। তাই কোনো অভিজ্ঞতাকেই চিরকালের জন্য নিজের বলে মুঠোয় ধরে রাখা যায় না।
'মনকে ছেড়ে দিন' কথাটিকে জোর করে চিন্তা মুছে ফেলার আদেশ বলে ভুল বোঝা সহজ। কিন্তু আজ আগে লক্ষ করুন, কোন মুহূর্তে বিচারমূলক চিন্তা জাগে। পছন্দ বা অপছন্দের রায় যুক্ত হওয়ার পর মন কীভাবে নড়ে, তা দেখুন, এবং সেই রায়ের পিছনে এখনই ছুটতে হবে কিনা, তা দেখতে একটু থামুন।
অ-মন হলে আপনি মূল উৎসকে ভেদ করে বোঝেন এবং ঘটনাসমূহের হেতু ও প্রত্যয় (ইনইয়ন) জানতে পারেন। সোংচোল সুনিম মোহজাত ভাবনার ক্ষয় এবং নির্বাণের ওপর জোর দিয়েছিলেন। এটি দিনের মেজাজ হালকাভাবে বদলানোর কৌশল নয়, বরং গভীর সাধনার দিকনির্দেশ। আজকের ছোট অনুশীলন সেই শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনে স্মরণ করার একটি পদক্ষেপ।
যা-ই ঘটুক, প্রথমে নিশ্বাসকে স্থির করুন এবং মনের গায়ে লেগে থাকা নামটিকে লক্ষ করুন। কষ্ট ও আনন্দ, দুটিকেই লক্ষ করুন, কিন্তু তাদের তাড়াতাড়ি 'আমার' বলে শক্ত করে ফেলবেন না, বা ঠেলে সরিয়েও দেবেন না।
আজকের শিক্ষা অ-মন ও বোধির কথা বলে, যেখানে বিজ্ঞান-মনের বিচারমূলক চিন্তা শান্ত হয়েছে। কষ্টদায়ক বিষয়কে ঠেলে সরানো বা আনন্দদায়ক বিষয়কে আঁকড়ে ধরতে চাওয়া মনকে লক্ষ করুন। দৈনন্দিন জীবনে শুরু করুন এভাবে: পছন্দ বা অপছন্দের রায় উঠলে একটু থেমে তা লক্ষ করুন।
- কষ্টদায়ক কিছুর মুখোমুখি হলে মন আগে নড়ে ওঠে।
- আপনি পছন্দ-অপছন্দের চিন্তাটি লক্ষ করেন।
- আপনি রায়ের পিছনে সঙ্গে সঙ্গে না ছুটে থামেন।
- যা আসে তার মুখোমুখি হন, মনে বাঁধা না পড়ে।
- বিচারমূলক চিন্তাকে বিশ্রাম দিয়ে এখনকার মনকে দেখুন।